অন্যান্য

সড়ক সংস্কারে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়, টেকেনি ২০ মাসও

  প্রতিনিধি 29 August 2025 , 4:00:14 প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মোংলা বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের ভেতর দিয়ে যাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোংলা-খুলনা মহাসড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে বন্দর এলাকার প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। শুকনা মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় হাঁটু কাদা, পানি ও খানাখন্দে রূপ নেয় এ সড়ক। প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন; দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদেরও।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বন্দর এলাকার প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা ও উঁচু-নিচু অংশে ভরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এ সড়কটি। এখান থেকে দুরপাল্লার বাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়, বছরে কয়েক লাখ পর্যটক মোংলায় আসেন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ভ্রমণে। এছাড়া মোংলা বন্দর, ইপিজেড, ইকোনমিক জোন ও আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্যও পরিবহন করা হয় এ সড়ক দিয়ে।ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন মালামাল বোঝাই করে চলাচল করছে। বন্দর এলাকায় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকায় দুপাশে ট্রাক-লরি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে পথচারীদের জন্য সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মোংলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাবুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশেই খানাখন্দ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সড়কের চেয়ে উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি মেইন সড়কে জমে থাকে। ফলে সড়কের পিচ নষ্ট হয়ে কাদা-বালিতে রূপ নেয়। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে সামান্য সংস্কার করা হলেও এর স্থায়িত্ব নেই। বরং সরকারি ও বন্দরের তহবিল থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

বন্দর এলাকার বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের একটি বৃহত্তম বন্দর হলো মোংলা সমুদ্রবন্দর। এখান থেকে লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন দেশি-বিদেশি পণ্য পরিবহন করা হয়। অথচ সেই বন্দরের প্রধান সড়কের এমন বেহাল অবস্থা, যা দেখে মনেই হয় না এটি একটি আন্তর্জাতিক বন্দরের প্রধান সড়ক।’ঢাকা থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালক মো. সগির হোসেন বলেন, ‘ট্রাক মালিক যদি পণ্য নিয়ে মোংলা বন্দরে আসতে বলে, তখন মন চায় না এখানে আসতে। খুলনা বা কাটাখালী পর্যন্ত ভালোই আসা যায়, কিন্তু কাটাখালী থেকে বন্দরের ভেতরে ঢুকলেই মনে হয় ট্রাকের চাকা ভেঙে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ি গর্তে আটকে যায়। তখন মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। এভাবে চলতে থাকলে বন্দর ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘কাটাখালী থেকে দিগরাজ পর্যন্ত সড়ক বিভাগের আওতায়। আর দিগরাজ থেকে মোংলার শেষ সীমান্ত বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কটি বন্দরের আওতায়। দুই বছর আগে সড়কটি পূর্ণ সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে পানি জমে সড়কের অবস্থা খারাপ হয়েছে। আমরা ভাঙা অংশে ইটের খোয়া দিয়ে সাময়িক সংস্কার করছি। এ ছাড়া মোংলা বাসস্ট্যান্ড থেকে দিগরাজ পর্যন্ত টেকসই ও ৬ লেনের সড়ক নির্মাণে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আর ভোগান্তি থাকবে না।

সূত্রঃ খুলনাঞ্চল

আরও খবর

                   

জনপ্রিয় সংবাদ